মূল তথ্যাংশে যান
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ইতিহাস

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কোনো সাধারণ নিদর্শন নয়—এটি মাতৃভাষার মর্যাদার দাবিতে প্রাণ দেওয়া মানুষদের স্মৃতিতে গড়া জাতীয় প্রতীক। নিচের সময়রেখা ১৯৫২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সেই স্মৃতির যাত্রা।

তথ্য যাচাই: ২৬ অক্টোবর ২০২৬। বর্তমান প্রবেশ, ফি, চলাচল ও আশপাশের স্থানগুলির সময় আলাদাভাবে নিশ্চিত করুন। প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার দিন নিয়ে সূত্রভেদ আছে: ট্যুরিজম বোর্ড ২৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাপিডিয়া ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ বলে।

১৯৫২: যেদিন থেকে শুরু

১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছেই এই ঘটনা ঘটে, আর এই রক্তক্ষয়ী স্মৃতি থেকেই শহীদ মিনারের ধারণা জন্ম নেয়।

ভাষার দাবিটি ছিল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক—তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নীতির বিরুদ্ধে বাংলাভাষী মানুষের পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম।

প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ ও তার ভাঙা

২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাতারাতি একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেন। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই পুলিশ সেটি ভেঙে দেয়; বিভিন্ন সূত্রে ভাঙার সুনির্দিষ্ট তারিখে সামান্য ভিন্নতা আছে।

তবু স্মরণের ধারণাটি মুছে যায়নি—বারবার স্মৃতিস্তম্ভ গড়ার দাবি জাতীয় আন্দোলনের রূপ নেয়।

১৯৫৭–১৯৬৩: স্থায়ী স্মৃতিসৌধ

স্থায়ী স্মৃতিসৌধের কাজ শুরু হয় শিল্পী-স্থপতি হামিদুর রহমানের নকশায়; ভাস্কর নভেরা আহমেদ সহযোগিতা করেন। সামরিক শাসনের সময় কাজ থেমে যায় এবং পরে পরিবর্তিত নকশায় কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে।

উঁচু সাদা ফ্রেম ও পেছনের লাল সূর্যবৃত্ত—এই গঠনভাষাই পরবর্তীতে বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠে।

  • নকশা: হামিদুর রহমান (স্থপতি-শিল্পী)
  • ভাস্কর্য সহযোগিতা: নভেরা আহমেদ
  • নির্মাণ শুরু: ১৯৫৭ · সমাপ্ত: ১৯৬৩

১৯৭১ ও তার পর: ধ্বংস, পুনর্নির্মাণ, সম্প্রসারণ

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানি বাহিনী স্মৃতিসৌধটি ধ্বংস করে। স্বাধীনতার পরে এটি আবার নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে বর্তমান পরিসরে সম্প্রসারিত করা হয়।

আজ এই কাঠামো ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার কেন্দ্রীয় প্রতীক—এবং প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে দেশের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

বাংলাদেশের উদ্যোগে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলন ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অনুমোদন করে; ২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে।

দিনটির আগের রাত থেকে স্মৃতিসৌধে ফুল ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারা শুরু হয়, এবং সকালে রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের অনুষ্ঠান হয়।

যাওয়ার আগে যা জানা ভালো

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কবে নির্মিত হয়?+

স্থায়ী স্মৃতিসৌধের কাজ ১৯৫৭ সালে শুরু হয়ে ১৯৬৩ সালে সম্পন্ন হয়; ১৯৭১-এ ধ্বংসের পর পুনর্নির্মিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে বর্তমান পরিসরে সম্প্রসারিত হয়।

স্মৃতিসৌধের নকশা কারা করেন?+

স্থপতি-শিল্পী হামিদুর রহমান মূল নকশা করেন; ভাস্কর নভেরা আহমেদ সহযোগিতা করেন।

ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে এটির সম্পর্ক কী?+

১৯৫২ সালের ২১–২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের শহীদদের স্মৃতিতেই এই স্মৃতিসৌধ গড়া হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেন ২১ ফেব্রুয়ারি?+

ভাষা আন্দোলনের স্মরণে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে এই দিনটি অনুমোদন করে; ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।